সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার
সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার আর এভাবে আবেগে ভাসলে হবে না বাস্তবকে মেনে নিতে হবে...
যতই না করি বাস্তব অস্বীকার করা যাবে না।
মেলার সেই জৌলুশ আর নেই সেটা যে কারনেই হোক না কেনো তার জন্য আমরা প্রকাশক বা পাঠক সমাজ দুজনই দায়ী হতে পারি সেটা যার যার মত ভেবে নিন।
* একুশে গ্রন্থমেলার যদি সামান্য জৌলুশ টিকিয়ে রাখতে চান মেলার সময় ১ মাস থেকে কমিয়ে ১০/১২ বা ১৫ দিনে নিয়ে আসুন, ১ মাস ব্যাপী বইমেলায় যাওয়ার মত সময় এখন আর পাঠকের কাছে নেই কারণ জীবনটা এখন সব ক্ষেত্রেই যান্ত্রিক ও কঠিন এটা বাস্তব সত্য।
* স্টল বিন্যাস যাচ্ছেতাই অবস্থা এত আগোছালো এত বড় এলাকা নিয়ে সেখানে পাঠক প্রথম পথ হারায় সাথে এত ঘুড়ে বই দেখার বা কেনার তাদের সময়ও নেই তাই স্টল বিন্যাস হতে হবে পাঠকের কথা মাথায় রেখে বিশ্বমানের আর্কিটেক্ট দরকার নেই একজন প্রকাশককে দিন ওনারাই পারবেন।
* স্টল বিন্যাসের সাথে সাথে সব স্টল এক রকম দেখা যায় সে যায়গায় নিয়ে আসতে হবে মেলায় স্টল বিন্যাসের সাথে সাথে স্টল সাইজেও বিরাট বৈষম্য তবে এটা নিজেদের তৈরি করা বৈষম্য। এই বৈষম্যের কারনে পাঠকের মধ্যে তৈরি হচ্ছে একটা ভ্রান্ত ধারনা কেউ শিকার করুক আর নাই করুক। আমাদের যে ব্যবসা আজ পর্যন্ত শিল্প হিসেবে ঘোষনা হয়নি সেই আমরা মেলায় প্যাভিলিয়ন নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগি। সিঙ্গেল না রেখে ডাবল/ত্রিপল আর চার ইউনিটে সিমাবদ্ধ রাখা উচিত।
* আরেকটি বিষয় অতি জরুরী তাহলো বাংলা একাডেমি তাদের যে কাজ সেটাই করুক। মেলার বিষয়টা আমাদের সমিতি আছে তাদের করতে দেয়া হোক। সাড়া বছর যেহেতু প্রকাশকরা নিজেদের ব্যবসা নিজেরাই করে মেলাটাও তারা করতে পারবে।
* যে সব প্রতিষ্ঠানের একটি বিক্রয় কেন্দ্র আছে এমন প্রতিষ্ঠান কে যাচাই বাছাই করে স্টল বরাদ্দ দেয়া। কারন বই প্রকাশনা যেমন একটা ব্যবসা তেমনি বছরে নতুন লেখক তৈরির মাধ্যমে একটা ব্যবসা শুরু হয়েছে, এ ব্যবসায় মেলার আগেই একটা মিনিয়াম এ্যামাউন্ট পকেটে পুড়ে নিতে পারে।
* প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের একের অধিক শাখা যেমন থাকে তেমনি অন্য নামেও প্রতিষ্ঠানও থাকে কিন্তু প্রডাক্ট হয়তো একই। তেমনি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলোরও একের অধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আছে এমন প্রতিষ্ঠান গুলো যাচাই করে স্টল দেয়া থেকে বিরত থাকা।
মনে হতে পারে পাগলের প্রলাপ কিন্তু শিকার না করলেও মনে মনে অনেকের হয়তো মনের কথা।
*মেলার চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন সেটা আর ছবিতে দেখনোর প্রয়োজন নেই।
সুশোভন ইফতেখার শাওন

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন