পোস্টগুলি

টেবিল টকের রণকৌশল: যখন দিল্লির দরবারে অকুতোভয় ছিলেন জিয়াউর রহমান / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
ইতিহাসের পাতায় অনেক সময় এমন কিছু অনানুষ্ঠানিক ঘটনা বা ‘টেবিল টক’ থেকে যায়, যা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। ১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। স্থান: ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন। তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছেন বাংলাদেশের তৎকালীন তরুণ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভারতের ঝানু ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা তখন বাংলাদেশের এই ৪১ বছর বয়সী রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যাকস্টেজে ঘটে যাওয়া একটি ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘটনা আজও বহুল চর্চিত। ​পটভূমি: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও দিল্লির অস্বস্তি ​প্রেসিডেন্ট জিয়ার এই সফরের ঠিক এক মাস আগে, ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই, রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো ঝানু নেতাদের সামনে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের অনেক নীতিনির্ধারকের মনেই এক ...

কোরবানি ইসলাম কি বলে ?

ছবি
ইসলামে কোরবানির পশুর গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি মুস্তাহাব বা উত্তম নিয়ম রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে জানা যায়। কোরবানির গোশত বণ্টনের ভিত্তি হলো কুরআনের এই আয়াত: ‎"অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ, অভাবী ও যাঞ্চাকারীদের আহার করাও।" ‎ (সূরা হজ: ২৮ ও ৩৬) ‎কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরাম গোশত বণ্টনের পদ্ধতিকে তিনটি ভাগে বিন্যস্ত করাকে উত্তম বলেছেন: ‎১. নিজের ও পরিবারের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ) ‎কোরবানির গোশতের একটি অংশ কোরবানিদাতা নিজের এবং তার পরিবারের খাওয়ার জন্য রাখবেন। এটি আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ‎২. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ) ‎একটি অংশ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এটি সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। ‎৩. অভাবী ও দরিদ্রদের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ) ‎বাকি অংশটি সমাজের অসহায়, অভাবী ও ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। যাতে ঈদের খুশিতে তারাও শামিল হতে পারে। ‎★কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : ‎*বাধ্যতামূলক নয় : এই তিন ভাগ করাটা '...

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: শিশু-কিশোরদের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক

ছবি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁর নাম চিরস্মরণীয়। তবে কেবল বড়দের জন্যই নয়, শিশু-কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং তাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান অপরিসীম। শিশু-কিশোরদের জন্য গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও মনন বিকাশে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন: নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠান : শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) **'নতুন কুঁড়ি'** নামক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালু ও জনপ্রিয় করেন। এটি ছিল সে সময়ের শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা : শিশুদের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি **বাংলাদেশ শিশু একাডেমি** প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে যা সারা দেশে শিশুদের সৃজনশীল চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। শিশু বান্ধব আইন : ১৯৭৪...

রবীন্দ্রনাথের নাটক, নাটকের রবীন্দ্রনাথ / সুশোভন ইফতেখার

ছবি
‎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালী সাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। তিনি কেবল গতানুগতিক নাট্যকাহিনি নয়, বরং নাটকের আঙ্গিক ও উপস্থাপনায় নিয়ে এসেছিলেন বৈচিত্র্য। তাঁর নাটকগুলোকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: ‎১. গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্য ‎রবীন্দ্রনাথের নাট্যচর্চার শুরু গীতিনাট্য দিয়ে। এখানে গানের মাধ্যমেই নাটকের ভাব প্রকাশিত হয়। শেষের দিকে তিনি তৈরি করেন 'নৃত্যনাট্য', যেখানে নাচ, গান ও অভিনয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। ‎গীতিনাট্য: বাল্মীকি-প্রতিভা (তাঁর প্রথম গীতিনাট্য), কালমৃগয়া, মায়ার খেলা। ‎ নৃত্যনাট্য: চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, শ্যামা। ‎২. কাব্যনাট্য ‎এই নাটকগুলো মূলত কাব্যিক ঢঙে লেখা এবং এখানে সংলাপের চেয়ে ভাবের গভীরতা বেশি। ‎উল্লেখযোগ্য: বিসর্জন, রাজা ও রানী, মালিনী, বিদায়-অভিশাপ। এর মধ্যে 'বিসর্জন' তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাট্য। ‎৩. রূপক-সাংকেতিক নাটক ‎রবীন্দ্রনাথের নাটকের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং গভীর অংশ হলো তাঁর রূপক বা সাংকেতিক নাটক। এগুলোতে সরাসরি কোনো গল্পের চেয়ে প্রতীকের মাধ্যমে গভীর জীবনদর্শন বা আধ্যাত্মিক সত্...

শহীদ জিয়ার জীবন রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (১৯৩৬–১৯৮১) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে দেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' দর্শনের প্রবর্তক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ‎শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের  জন্ম ও প্রাথমিক জীবন ‎ * জন্ম: ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ সাল, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে। ‎ * পিতা-মাতা: তাঁর পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং মাতা জাহানারা খাতুন। ‎ * শিক্ষা: শৈশব কাটে বগুড়া ও কলকাতায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পরিবার করাচিতে চলে যায়। ১৯৫৩ সালে তিনি করাচির ডিজে কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন এবং একই বছর কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ‎ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সামরিক জীবন ‎ ‎ * কমিশন লাভ: ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহ...

স্বৈরাচারের দোসররা নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: জয়নাল আবদিন ফারুক

ছবি
জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো নির্বাচনকে ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়ারত ও ফাতেহ পাঠ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, প্রকাশনা সেক্টরকে স্বৈরাচারী সরকার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। কোনো বই ছাপাতে হলে কলকাতা পাঠিয়ে দিতো তার বন্ধুর দেশে। সত্যিকার ঘটনাগুলো প্রকাশের সাহস এই প্রকাশনা পরিষদের ছিল না। পাঠ্যপুস্তককেও তারা (আ.লীগ) স্বৈরাচারী কায়দায় দলীকরণের যে হীন প্রচেষ্টা করেছিল তার প্রকাশ গত ১৬ বছরে আপনারা (জনগণ) দেখেছেন। জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ যেনো নিজেরাই নিজেদের প্রকাশনা না করে দেশের স্বার্থে, মানুষের স্...

ইমামতি / সুশোভন ইফতেখার

ছবি
ইমাম আজব এক চাকরি! *ইমামতি* কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা মসজিদ ইমামের বেতন মাত্র আট হাজার টাকা! ইমাম নিয়োগ দেওয়ার জন্য মসজিদে ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হলো। ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে আলেমদের নিয়ে আসা হলো ইন্টারভিউ নিতে। এই নিয়ে বাজেট হলো প্রায় ৮০ হাজার টাকা। প্রায় দেড়শ আলেম থেকে বাছাই করে রাখা হলো যোগ্যতাসম্পন্ন একজন আলেমকে। মাশাল্লাহ তিনি হাফেজ-মাওলানা-মুফতি। পোস্টারে এর আগে অনেক শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছিলো। যার মধ্যে হাফেজ-মাওলানা-মুফতি হওয়া ছিলো অন্যতম শর্ত। সবকিছুই ভালোভাবে সম্পন্ন হলো আলহামদুলিল্লাহ। ইমাম সাহেবের মাসিক হাদিয়া নির্ধারণ করা হলো 'সাতহাজার' টাকা। এই বেতনেই চলছিলো ইমাম সাহেবের দিন। হঠাত একদিন ইমাম সাহেব বললেন, আমাদের একটা মিম্বর লাগবে। যেটায় দাঁড়িয়ে সুন্দর করে খুতবা দেওয়া যায়। মাশাল্লাহ এক সপ্তাহের মধ্যেই দেড়লাখ টাকা বাজেটের মিম্বর চলে আসলো৷ অন্য আরেক জুম্মায় আবার জানানো হলো, মসজিদের মাইকের সমস্যা। এটাও হয়ে আসলো সপ্তাহের ভিতরেই। এভাবেই প্রতি জুম্মায় বড়ো কোনো বাজেটের ঘোষণা করা হয়, সপ্তাহের ভিতরেই সেটা সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ইমাম সাহেবের বেতনের কোনো পরিবর্তন নেই। এ...

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রূপে অপরূপ বাংলাদেশ (ঢাকা বিভাগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) / গ্রন্থনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা সুশোভন ইফতেখার

ছবি
  ঢাকা বিভাগ   ঢাকা বিভাগের   মানচিত্র ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী ও বিভাগীয় শহর। ১৭ টি জেলা নিয়ে ঢকা বিভাগ গঠিত হলেও শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রকরণের ফলে ৪টি জেলা কেটে ময়মানসিংহ বিভাগ করা হয়েছে। ফলে এখন ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৩টি।   দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগ অন্যতম। শিল্প , সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে ঢাকা বিভাগ অত্যান্ত সমৃদ্ধশালী , ইতহাসে ভরপুর। ঢাকা বিভাগের সীমানা :- উত্তরে ময়মানসিংহ , দক্ষিণে বরিশাল বিভাগ , পূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগ , পশ্চিমে রাজশাহী বিভাগ। আয়তন :- ২০ , ৩৯৫.০৪ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায়  :- ৩ , ৬৪ , ৩৩ , ৫০৫জন। মোট জেলা ১৩টি , যথা :- ঢাকা , নারায়নগঞ্জ , মুন্সিগঞ্জ , নরসিংদী , কিশোরগঞ্জ , মানিকগঞ্জ , গাজীপুর , টাঙ্গাইল , ফরিদপুর , মাদারীপুর , শরীয়তপুর , রাজবাড়ী ও গোপালপুর। উপজেলা  :- ৮৮টি। সিটি কর্পোরেশন  :- ৪ টি। পৌরসভা  :- ৫৬ টি। ইউনিয়ন পরিষদ  :- ৮৭২টি। মৌজা  :- ৮ , ৯৩০টি। গ্রাম  :- ১৫ , ৬৬৭ টি। এই বিভাগে রয়েছে অংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। যেমন :- ঢাকেশ্বরী মন্দির , ...