নবাবি আমলের ঢাকার ঈদ : ধর্মীয় আচার থেকে জনসম্পৃক্ত উতসব
ঈদ বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে নিছক একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি একই সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, দানশীলতা, খাদ্যসংস্কৃতি এবং জনপরিসরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। তবে বর্তমান সময়ের সর্বজনীন ও বহুমাত্রিক ঈদ উদযাপনের সঙ্গে উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের প্রথম দিকের ঢাকার ঈদ সংস্কৃতির যথেষ্ট পার্থক্য ছিল। সমকালীন ও পরবর্তী স্মৃতিচারণমূলক বিবরণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সে সময় ঈদের জাঁকজমক সামাজিকভাবে মূলত সচ্ছল ও অভিজাত মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যেই বেশি দৃশ্যমান ছিল। অন্যদিকে নগরীর বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ঈদের আনন্দের পরিসর ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে ঢাকার নবাব পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঈদ ক্রমে একটি বৃহত্তর জনসম্পৃক্ত উতসবে পরিণত হওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যায়। নবাব আবদুল গনি, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ এবং বিশেষত নবাব খাজা সলিমুল্লাহর সময়ে ঈদকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি খাদ্য বিতরণ, বস্ত্র প্রদান, বিনোদন, মেলা ও ক্রীড়া আয়োজনের যে ধারাটি গড়ে উঠেছিল, তা ঢাকার সামাজিক ইতিহাসে বিশেষ তাতপর্য বহন করে। নগরজীবন ও ঈদের সামাজিক পরিসর ঔপনিবেশিক আমলের ঢাকা ছিল জনসং...