পোস্টগুলি

বাবারা কেন পিছিয়ে থাকেন ? / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
এটাই তো সত্যি, আমরা সবাই দেখি,  কিন্তু কেউ বলি না। বাবা–পরিবারের নীরব মেরুদণ্ড আমাদের জীবনের এক অদ্ভুত হিসেব আছে। মা'কে নিয়ে আমরা কবিতা লিখি, গান গাই, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই। আর বাবা ? তিনি থেকে যান পর্দার আড়ালে। ভালোবাসায় নয়, প্রকাশে তিনি পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু কেন? ১. ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি আলাদা মা ৯ মাস পেটে ধরেন, পৃথিবীর সবাই সেই কষ্টটা দেখতে পায়। বাবা ২৫ বছর মাথায় করে সংসার বয়ে বেড়ান, সেই ভারটা কেউ দেখতে পায় না। মায়ের ভালোবাসা চোখের জলে, বাবার ভালোবাসা কপালের ঘামে। একটা দেখা যায়, আরেকটা শুধু অনুভব করতে হয়। ২. চাহিদাহীন এক যোদ্ধা মায়ের আলমারি ভর্তি শাড়ি, সন্তানের আলমারি ভর্তি নতুন জামা। আর বাবার? সেই ৩ বছর আগের দুটো শার্ট, একটা ক্ষয়ে যাওয়া লুঙ্গি। তিনি কখনো বলেন না "আমার লাগবে"। তিনি শুধু জিজ্ঞেস করেন, "তোদের হয়েছে তো" ? যে মানুষটা নিজের জন্য চাইতে জানে না, তাকে আমরা ভুল করে ভাবি তার কিছু লাগে না। ৩. নীরবতার দাম দিতে হয় মন খারাপ হলে আমরা "মা" বলে কাঁদি। ফোন করলে আগে মায়ের খোঁজ করি। বিপদে পড়লে মাকে জড়িয়ে ধরি। আর বাবাকে মনে পড়ে শ...

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ: বিএনপিতে প্রয়োজন সাহসী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
সবার আগে বাংলাদেশ ক্ষমতায় কিংবা সরকারের কাছাকাছি থাকার সুযোগ তৈরি হলেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা আসা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসও তার ব্যত্যয় নয়। এই বাস্তবতায় সরকার পরিচালনার প্রস্তুতির পাশাপাশি দল হিসেবে নিজেদের কার্যক্রমকে আরও ডাইনামিক ও গতিশীল করা বিএনপির জন্য এখন সময়ের দাবি। আর সেজন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সাহসী পরিবর্তন ও দূরদর্শী চিন্তার কোনো বিকল্প নেই। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে মহাসচিব পদে বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ ও পরিচিত মুখ আলোচনার শীর্ষে থাকলেও, এই মুহূর্তে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে সময় এসেছে একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল বা 'বোল্ড মুভ' নেওয়ার। ইতিহাস বলে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও এমন এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের প্রয়াণের পর জ্যেষ্ঠতার সমীকরণ পেরিয়ে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। সে সময় সমালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছিল বেগম জিয়ার সেই সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দূরদর্শী। টানা নির্যাতন, হামলা-মামলা ও ভা...

সার্বভৌমত্ব, প্রতিবেশ নীতি এবং আমাদের অবস্থান: 'রাষ্ট্র' বনাম 'জনগণের' পার্থক্য / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
ফাটল ধরা বন্ধুত্বের প্রতীক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনীতির চর্চায় কোনো দেশের ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ এবং সেখানকার ‘সাধারণ জনগণ’ কখনোই এক বস্তু নয়—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্তা। কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের আধিপত্যকামী নীতির বিরোধিতা করা মানেই সেই দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়। এই সূক্ষ্ম অথচ মৌলিক সত্যটি অনুধাবন করা আধুনিক স্বাতন্ত্র্যসূচক রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রথম শর্ত। ‎​১. জনগণই বন্ধু: ‎সংহতির চিরায়ত শক্তি ​পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও প্রগতির প্রধান স্তম্ভ হলো সাধারণ মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক। প্রতিবেশীর জনগণ সর্বদাই সহমর্মিতার পাত্র। সাম্প্রতিক জুলাই ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় কলকাতার সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ ও ভাই-বোনেরা যেভাবে রাজপথে নেমে আমাদের মুক্তিকামী লড়াইয়ের সমর্থনে মিছিল করেছেন, তা প্রমাণ করে—জনগণের সাথে জনগণের লড়াইটা অধিকার আদায়ের, সংহতির। এই সৌহার্দ্য ও মানবিক বন্ধন ভৌগোলিক সীমান্ত বা রাজনৈতিক সমীকরণের ঊর্ধ্বে। ‎​২ . ‘ইন্ডিয়া’ বনাম ‘ভারত’ : ‎আধিপত্যবাদের প্রতীকী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এখানে ‘ভারত’ শব্দটি যখন সাধারণ সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিবেশীকে নির্দেশ করে...

হাজারটা নমরুদ মরলে একটা হাসিনার জন্ম হয় : মাস্টার লায়ারের শেষ মিথ্যাও ফাঁস / সুশোভন ইফতেখার

ছবি
হাজারটা নমরুদ মরার পর মনে হয় এরকম একটা ক্লিনিক্যাল সাইকোপ্যাথ, প্যাথলজিক্যাল লায়ার আর ভিকটিম কার্ড খেলা স্বৈরাচারের জন্ম হয়। নাম তার শেখ হাসিনা। এতদিন এই সাইকোপ্যাথের মুখের বয়ান ছিল একটাই-৫ই আগস্ট নাকি খুনিটা টেরই পায় নাই তাকে ইন্ডিয়া নেওয়া হচ্ছে। তাকে নাকি জোর করে প্লেনে তুলে দেওয়া হয়েছে, সে ভেবেছিল তাকে তার বাপের বাড়ি গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। কি নিষ্পাপ, কি সরল অভিনয়! আর এই ডাহা মিথ্যাটাই তার এতদিনের সাঙ্গোপাঙ্গ, ইউরোপ-আমেরিকায় পালিয়ে থাকা অনলাইন কর্মী বাহিনী আর দিল্লির দালাল কিছু "ছিনিয়র চাংবাদিক" তোতা পাখির মতো আউড়ে গেছে। তাদের স্ক্রিপ্ট ছিল একটাই-“আপাকে ষড়যন্ত্র করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আপা যেতে চান নাই।” কিন্তু বিধি বাম। মিথ্যার পা বেশিদিন থাকে না। ভারতের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পুরো গেম এক্সপোজ করে দিয়েছেন। এটা কোনো হাটে-মাঠে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য না। এটা ভারতের পার্লামেন্টের ফ্লোরে দেওয়া অন-রেকর্ড স্টেটমেন্ট, যা ইতিহাসে আজীবন থেকে যাবে। জয়শঙ্কর একদম ক্লিয়ার ভাষায় বলেছেন :- "On 5th August, demonstrators converged in Dhaka d...

সংকটে শিক্ষা: অধিকারের লড়াই বনাম অযৌক্তিক দাবি / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
পরীক্ষায় কড়া গার্ড থাকবে না, সিসিটিভি ক্যামেরা সরানো কিংবা প্রশ্ন মনমতো হতে হবে—এমন দাবি যখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসে, তখন তা অধিকারের আন্দোলন থাকে না, বরং পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বাহানায় রূপ নেয়। বৃষ্টি কিংবা যানজটের অজুহাতে যারা পরীক্ষার টেবিল বর্জন করেন, তারাই আবার একই বৈরী আবহাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। এই বিপরীতমুখী আচরণ গভীর এক দ্বৈত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। ‎আন্দোলন বা দাবি আদায়ের অধিকার একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই আছে, তবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার মৌলিক মান এবং শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সড়ক অবরোধের মতো খামখেয়ালি দাবি কোনোভাবেই একজন স্বাভাবিক ও সচেতন শিক্ষার্থীর অবস্থান হতে পারে না। ‎পড়াশোনায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও শিক্ষক-অভিভাবকদের ভূমিকা ‎যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি: সিসিটিভি এড়ানো বা ফাঁকি দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার এই সস্তা মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে ধূলিসাৎ করছে। এভাবে পার পেয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে বা উচ্চশিক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে পারে না...

‎ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: স্বৈরাচারের পরিণতি ও পতনের অমোঘ নিয়ম / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
ইতিহাসের একটি নির্মম সত্য হলো—ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ শাসকেরা মনে করেন তাদের পতন অসম্ভব। কিন্তু যখন গণমানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী স্বৈরাচারের আসনও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার পতনের প্রেক্ষাপট এবং উগান্ডার কুখ্যাত স্বৈরশাসক ইদি আমিনের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা এর এক অদ্ভুত ও সত্য সমান্তরাল রূপ দেখতে পাই। ‎ইদি আমিনের নির্বাসন ও ব্যর্থ চেষ্টা গণআন্দোলনের মুখে উগান্ডা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ইদি আমিন লিবিয়া ও ইরাক হয়ে অবশেষে সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন (অনেকে ভুলবশত রুয়ান্ডা মনে করলেও মূলত মধ্যপ্রাচ্যেই তার স্থায়ী নির্বাসন ঘটে)। নির্বাসিত জীবনে থেকেও তিনি উগান্ডার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতি-বিপ্লবের চেষ্টা এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার নানা নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বিনষ্ট করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। কিন্তু প্রকৃতির বিচার ছিল ভিন্ন। সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে বিদেশের মাটিতেই তার করুণ মৃত্যু হয় এবং তার মরদেহটুকুও নিজের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ‎গণআন্দোলন এবং জনমানুষের আকঙ্ক্ষা ‎যারা ভাবছেন শেখ হাসিনা আবার ফিরে আ...

‎ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা: একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ / সুশোভন ইফতেখার

ছবি
‎​১. মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনির বিস্তার ‎​বিগত বছরগুলোতে ভারতে "গো-রক্ষা" (Cow Protection) এবং ধর্মীয় উগ্রতার অজুহাতে মুসলিমদের ওপর মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাস্তাঘাটে বা নিজ বাসভবনে শুধু সন্দেহের বশে অনেক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' (HRW) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনাগুলোর পর অপরাধীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। ‎​২. ঘৃণামূলক বক্তব্য (Hate Speech) এবং সামাজিক মেরুকরণ ‎​সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গবেষণা এবং ভারতের নিজস্ব মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সেলের উপাত্ত থেকে জানা যায়, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে উগ্র ও উসকানিমূলক বক্তব্যের (Hate Speech) পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব যেমন—"লাভ জিহাদ" বা ভুয়া সামাজিক গুজব ছড়িয়ে সাধারণ জনগণের মনে মুসলিম বিদ্বেষ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে খুব ছোটখাটো সামাজিক বিবাদও সহজেই বড়...

‎দিল্লির 'মন্ত্রী' চাল বনাম ভিয়েনা কনভেনশন: কূটনীতি কি ইগোর খেলা?

ছবি
গত এক বছরে অন্তত নয়বার ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বারবার এই 'হেডমাস্টারের রুমে' হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি যে দিল্লির কূটনৈতিক ইগোতে বেশ বড়সড় আঘাত করেছে, তা স্পষ্ট। আর সেই ইগো ঢাকতেই সাউথ ব্লক এবার এক নতুন 'চাণক্য চাল' চেলেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে 'ক্যাবিনেট মন্ত্রীর' তকমা দিয়ে। দিল্লির হিসাব হয়তো সরল—মন্ত্রী পর্যায়ের কাউকে তো আর ঢাকা কথায় কথায় তলব করে কৈফিয়ত চাইতে পারবে না! ‎কিন্তু প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক কূটনীতি কি দিল্লির এই ঘরোয়া রাজনৈতিক সমীকরণে চলে? নাকি এটি কেবলই একটি সস্তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare)? ‎আইনি বাস্তবতা ও ভিয়েনা কনভেনশন : ‎দিল্লির এই তথাকথিত 'মাস্টারস্ট্রোক' আন্তর্জাতিক আইনের কষ্টিপাথরে একেবারেই টিকবে না। ১৯৬১ সালের **'ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস'**-এর কোথাও এমন কোনো নিয়ম নেই যে, কোনো দেশ তার দূতকে ঘরোয়াভাবে 'মন্ত্রী' বা 'মহারাজা' উপাধি দিলে হোস্ট কান্ট্রি (যে দেশে তিনি নিযুক্ত) তাকে তলব করতে পারবে না...

জিয়াউর রহমান: এক জননায়ক ও কুৎসার রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে কোনো গণ্ডিবদ্ধ সংজ্ঞায় আটকে রাখা অসম্ভব। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাঁকে 'রুথলেস সামরিক শাসক' হিসেবে চিত্রায়িত করতে চাইলেও, ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো—জিয়া ছিলেন এ দেশের ইতিহাসের একমাত্র 'মুক্তিযোদ্ধা শাসক'। অথচ আশ্চর্য বিষয়, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটো কিংবা মিসরের গামাল আব্দেল নাসেরকে তাঁদের দেশের মানুষ সামরিক শাসক হিসেবে দেখে না; দেখে ট্রেইলব্লেজার বা জাতীয় বীর হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশে সার্বভৌমত্বের এই প্রধান প্রতীককে ভিলেন বানানোর এক পরিকল্পিত অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। ‎স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে 'ম্যান অব অ্যাকশন ' ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ যখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা পাশ কাটিয়ে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি কেবল ঘোষণাকারীই ছিলেন না, সম্মুখসমরের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালেও দেশের চরম সংকটে তিনি 'ম্যান অব অ্যাকশন' হ...

টেবিল টকের রণকৌশল: যখন দিল্লির দরবারে অকুতোভয় ছিলেন জিয়াউর রহমান / সুশোভন ইফতেখার শাওন

ছবি
ইতিহাসের পাতায় অনেক সময় এমন কিছু অনানুষ্ঠানিক ঘটনা বা ‘টেবিল টক’ থেকে যায়, যা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। ১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। স্থান: ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন। তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছেন বাংলাদেশের তৎকালীন তরুণ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভারতের ঝানু ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা তখন বাংলাদেশের এই ৪১ বছর বয়সী রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যাকস্টেজে ঘটে যাওয়া একটি ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘটনা আজও বহুল চর্চিত। ​পটভূমি: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও দিল্লির অস্বস্তি ​প্রেসিডেন্ট জিয়ার এই সফরের ঠিক এক মাস আগে, ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই, রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো ঝানু নেতাদের সামনে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের অনেক নীতিনির্ধারকের মনেই এক ...