হাজারটা নমরুদ মরলে একটা হাসিনার জন্ম হয় : মাস্টার লায়ারের শেষ মিথ্যাও ফাঁস / সুশোভন ইফতেখার
হাজারটা নমরুদ মরার পর মনে হয় এরকম একটা ক্লিনিক্যাল সাইকোপ্যাথ, প্যাথলজিক্যাল লায়ার আর ভিকটিম কার্ড খেলা স্বৈরাচারের জন্ম হয়। নাম তার শেখ হাসিনা।
এতদিন এই সাইকোপ্যাথের মুখের বয়ান ছিল একটাই-৫ই আগস্ট নাকি খুনিটা টেরই পায় নাই তাকে ইন্ডিয়া নেওয়া হচ্ছে। তাকে নাকি জোর করে প্লেনে তুলে দেওয়া হয়েছে, সে ভেবেছিল তাকে তার বাপের বাড়ি গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। কি নিষ্পাপ, কি সরল অভিনয়!
আর এই ডাহা মিথ্যাটাই তার এতদিনের সাঙ্গোপাঙ্গ, ইউরোপ-আমেরিকায় পালিয়ে থাকা অনলাইন কর্মী বাহিনী আর দিল্লির দালাল কিছু "ছিনিয়র চাংবাদিক" তোতা পাখির মতো আউড়ে গেছে। তাদের স্ক্রিপ্ট ছিল একটাই-“আপাকে ষড়যন্ত্র করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আপা যেতে চান নাই।” কিন্তু বিধি বাম। মিথ্যার পা বেশিদিন থাকে না।
ভারতের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পুরো গেম এক্সপোজ করে দিয়েছেন। এটা কোনো হাটে-মাঠে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য না। এটা ভারতের পার্লামেন্টের ফ্লোরে দেওয়া অন-রেকর্ড স্টেটমেন্ট, যা ইতিহাসে আজীবন থেকে যাবে।
জয়শঙ্কর একদম ক্লিয়ার ভাষায় বলেছেন :-
"On 5th August, demonstrators converged in Dhaka despite the curfew... after a meeting with leaders of the security establishment, Prime Minister Sheikh Hasina apparently made the decision to resign. At very short notice, she requested approval to come for the moment to India."
মানে, বাংলাদেশের কোনো সরকারি অথরিটি, এস্টাবলিশমেন্ট বা সেনাবাহিনী ভারতকে তাকে নিয়ে যাওয়ার কোনো রিকোয়েস্ট করে নাই। বরং এই স্বৈরাচার নিজে, নিজের প্রাণ বাঁচাতে "At very short notice" তার প্রভু দেশের কাছে আশ্রয় ভিক্ষা চেয়েছে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমাণ।
নিজে কান্নাকাটি করে, পা ধরে আশ্রয় ভিক্ষা করে দিল্লি পালিয়ে গিয়ে এখন সে ভিকটিম কার্ড খেলতেছে। বলতেছে তাকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে। আসলে ক্লিনিক্যাল সাইকোপ্যাথদের লক্ষণই এটা। তারা নিজেরা খুন করে, গুম করে, গণহত্যা চালায়, তারপর ধরা পড়লে নিজেকেই সবচেয়ে বড় ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করে। হাসিনা তার জীবদ্দশায় এটাই করে গেছে। ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে জিম্মি করে রেখে, শেষ মুহূর্তে নিজের চামড়া বাঁচাতে প্রভুর কোলে গিয়ে উঠেছে।
জয়শঙ্করের এই একটা লাইনই হাসিনার ৫ই আগস্টের পরের সমস্ত মিথ্যার কফিনে শেষ পেরেক। যারা এখনো এই মিথ্যুকের মুখের কথায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এই পার্লামেন্ট রেকর্ডটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন