ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: স্বৈরাচারের পরিণতি ও পতনের অমোঘ নিয়ম / সুশোভন ইফতেখার শাওন
ইদি আমিনের নির্বাসন ও ব্যর্থ চেষ্টা
গণআন্দোলনের মুখে উগান্ডা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ইদি আমিন লিবিয়া ও ইরাক হয়ে অবশেষে সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন (অনেকে ভুলবশত রুয়ান্ডা মনে করলেও মূলত মধ্যপ্রাচ্যেই তার স্থায়ী নির্বাসন ঘটে)। নির্বাসিত জীবনে থেকেও তিনি উগান্ডার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতি-বিপ্লবের চেষ্টা এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার নানা নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বিনষ্ট করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। কিন্তু প্রকৃতির বিচার ছিল ভিন্ন। সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে বিদেশের মাটিতেই তার করুণ মৃত্যু হয় এবং তার মরদেহটুকুও নিজের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গণআন্দোলন এবং জনমানুষের আকঙ্ক্ষা
যারা ভাবছেন শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবেন বা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হবেন, তারা মূলত ইতিহাসের বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন। উমাইয়া খিলাফতের পতনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যখনই কোনো শাসক চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করার পথ বেছে নিয়েছে, তখনই তাদের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের মানুষের রাজপথে নেমে আসা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না; এটি ছিল প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার, অধিকার আদায়ের এবং দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার লড়াই। মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে নিজের ও দেশের প্রয়োজনে এই পতন নিশ্চিত করেছে।
রাজনীতির অমোঘ সত্য
রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার একমাত্র শর্ত হলো মাঠে সচল থাকা, জনগণের মুখোমুখি হওয়া এবং সংকট মোকাবিলা করা। কিন্তু কেউ যখন একবার হোঁচট খেয়ে মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তখন দূর পরদেশে বসে রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা অসম্ভব।
শেষ কথা ভিনদেশে বসে বা অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশের ভেতরে নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। দিনশেষে যেকোনো দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে সেই দেশের সাধারণ মানুষ এবং সর্বোপরি মহান সৃষ্টিকর্তার অমোঘ বিচার ব্যবস্থা। যারা এই সত্য মেনে নিতে পারেন না, তারা আসলে এক অলীক স্বপ্নে বাস করছেন। ইতিহাস আমাদের শেখায়—জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন