প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক

 

স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৫৫-১৯৩২

দেবী, স্বর্ণকুমারী (১৮৫৫-১৯৩২) কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভাগ্নী। সমকালীন রীতি অনুযায়ী স্বর্ণকুমারী বাড়িতে শিক্ষালাভ করেন। বারো বছর বয়সে তাকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট জানকীরাম ঘোষালের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। তার স্বামী কলকাতার ভদ্রলোক সমাজের একজন প্রগতিশীল সদস্য ছিলেন। তিনি তার স্ত্রীকে পর্দা পরিত্যাগ করার পরামর্শ দেন এবং লেখালেখি ও সমাজ সেবার কাজে উৎসাহিত করেন। ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তার দীপ নির্বাণ (১৮৭০) উপন্যাসটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তার অন্যান্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ছিন্ন মুকুল, স্নেহলতা বা পালিতা (১৮৯২-৩) এবং সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৭৯ সালে গীতিনাটক বসন্ত উৎসব প্রকাশ করেন। সম্ভবত এটি ছিল বাংলায় (বাংলাদেশে) লিখিত প্রথম অপেরা। তিনি বাংলায় সর্বমোট ২৫টি গ্রন্থ রচনা করেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। ১৮৮৯ ও ১৮৯০ সালে তিনি পন্ডিত রামবাঈ, রামবাঈ রানাদে ও কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর সাথে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর বার্ষিক অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ওই অধিবেশনে বাংলা প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত প্রথম দুজন সদস্যের একজন। ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিনী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ল্য দোজিয়েম সেক্স/দি সেকেন্ড সেক্স/শি লিঙ্গ

শহীদ জিয়ার জীবন রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার