একাত্তরে দখলদ্বার সরকারের সমর্থনে ঢাকায় ৫৫ জন বুদ্ধিজীবীর বিবৃতি

 

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় মিছিল

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সৈন্য বাহিনী পূর্ব বাংলায় গণহত্যায় লিপ্ত হয়ে বিশেষ করে ঢাকায় বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষক- বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেহানাদার সরকারের আরোপিত সেন্সরের বেড়াজাল ভেদ করে বুদ্ধিজীবী হত্যার খবরাখবর বিশ্বের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত এবং বেতার টিভিতে প্রচারিত হলে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়এ ধরনের এক পরিস্থিতিতে ফৌজি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সরকার আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেএরই জের হিসাবে একাত্তরের মে মাস নাগাদ ৫৫ জন বাঙালি বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ লিপি বিদেশের সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন আকারে এবং দেশীয় সংবাদপত্রে বিবৃতি হিসাবে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনের শিরোনাম ছিল "A Statement By East Pakistan Scholars and Artistis." উপরম্ভ করাচীর সাইফি প্রিন্টার্স-এ ইংরেজি ভাষায় মুদ্রিত নয় পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন পুস্তকাকারে প্রকাশ করে বিভিন্ন দূতাবাস ছাড়াও দেশ-বিদেশে বিতরণ করা হয়এরই পাশাপাশি আলোচ্য বিবৃতিটি স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয় ১৯৭১ সালের ১৭ই মে তারিখে সংবাদপত্রে ৫৫ জন বুদ্ধিজীবীর বিবৃতির অংশ

বিশেষ নিম্নরূপ :

নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব ইউনিভার্সিটি এমারজেন্সিবলে পরিচিত একটি সংস্থা তাদের ভাষায় ঢাকায় বিদ্বজ্জনের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডেউদ্বেগ প্রকাশ করে যে বিবৃতি দিয়েছেন, আমরা তা পাঠ করে হতবাক হয়ে গিয়েছি।...
আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও নিহতের তালিকায় তাঁদের নাম দেখতে পেয়ে হতবাক হয়েছেননেহাত নাচার হয়েই আমাদের জানাতে হচ্ছে আমরা মৃত নইআমাদের পেশাদার কাজের স্বাভাবিক রীতি অনুসারেই আমরা ঢাকা টেলিভিশনের পর্দায় আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ নিয়েছি।.... ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে গোলযোগ চলাকালে আমাদের অধিকাংশই মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে নিজ নিজ গ্রামে চলে গিয়েছিলএ কারণেই হয়তো ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকবেসময় নির্দিষ্ট করে বলার কারণ আছেকেননা, এই সময়টাতেই দেশের প্রতিষ্ঠিত বৈধ সরকারকে অমান্য করার কাজ পুরোদমে চলছিলনির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্ব শাসনের দাবিকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবিতে সম্প্রসারিত ও রূপায়িত করার জন্য উঠে পড়ে লেগে গিয়েছিল....পাকিস্তানি শাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের নিজস্ব অভাব অভিযোগ রয়েছেদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের যেটা প্রাপ্য সেটা না পেয়ে আমরা অসুখীআমাদের এই অসন্তোষ আমরা প্রকাশ করেছি একই রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ব্যাপক স্বায়ত্ব শাসনের পক্ষে ভোট দিয়ে কিন্তু আওয়ামীলীগ চরমপন্থীরা এই সরল-সহজ আইনসঙ্গত দাবিকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবিতে রূপান্তরিত করায় আমরা মর্মাহত হয়েছিআমরা কখনো এটা চাইনি, ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ ও দুঃখিত হয়েছি।...

পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু প্রদেশ হিসাবে সারা পাকিস্তানকে শাসন করার অধিকার আমাদের আছেআর সেটা আমাদের আয়ত্বের মধ্যেই এসে গিয়েছিলঠিক তখনই চরমপন্থীদের দূরাশায় পেয়ে বসলো এবং তারা জাতীয় অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুললপ্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন দিলেনক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আলোচনাকালে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগুরু দল হিসাবে অভিনন্দন জানিয়েছেনকিন্তু উল্টাটি ঘটে গেল এবং নেমে এল জাতীয় দুর্যোগ কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী হওয়ার সঙ্গত কারণ রয়েছেআমরা পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত এবং বর্তমান সরকার অবস্থা অনুকূল হওয়ার সাথে সাথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার ইচ্ছা আবার ঘোষণা করেছেনএমতাবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত আমাদের একাডেমিসিয়ানরা আমাদের কল্যাণের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করায় আমরা কৃতজ্ঞকিন্তু আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোনোরকম হস্তক্ষেপের বিরোধিতা ও নিন্দা করছি

১৭ মে ১৯৭১ প্রকাশিত দৈনিক পাকিস্তান
 

দৈনিক পাকিস্তান  ১৭/৫/১৯৭১ এই বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেন তাঁরা হলেন :

১. ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন 
২. প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহিম খাঁ
৩. এম কবীর*
৪. ড. মীর ফখরুজ্জামান 
৫. ড. কাজী দীন মোহাম্মদ
৬. নুরুল মোমেন
৭. জুলফিকার আলী
৮. আহসান হাবীব
৯. খান আতাউর রহমান
১০. শাহনাজ বেগম
১১. আশকার ইবনে শাইখ
১২. ফরিদা ইয়াসমিন
১৩. আব্দুল আলীম
১৪. আব্দুল্লাহ্ ইউসুফ ইমাম 
১৫. এ এইচ চৌধুরী
১৬. ড. মোহর আলী
১৭. মুনীর চৌধুরী
১৮. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
১৯. খোন্দকার ফারুক আহমেদ
২০. এস এ হাদী 
২১. নীনা হামিদ
২২. এম এ হামিদ
২৩. লায়লা আর্জুমান্দ বানু
২৪. শামসুল হুদা চৌধুরী*
২৫. বেদারউদ্দিন আহমেদ 
২৬. সাবিনা ইয়াসমীন
২৭. ফেরদৌসী রহমান
২৮. মোস্তফা জামান আব্বাসী
২৯. সরদার জয়েনউদ্দিন
৩০. সৈয়দ মূর্তজা আলী 
৩১. কবি তালিম হোসেন
৩২. শাহেদ আলী
৩৩. কবি আবদুস সাত্তার
৩৪. ফররুখ শীয়র
৩৫. কবি ফররুখ আহমেদ
৩৬. সম্পাদক আব্দুস সালাম
৩৭. সম্পাদক এস, জি, এম বদরুদ্দীন 
৩৮. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
৩৯. ফতেহ লোহানী
৪০. হেমায়েত হোসেন
৪১. বি এম রহমান
৪২. মফজুলুল হোসেন
৪৩. আকবরউদ্দিন 
৪৪. আকবর হোসেন
৪৫. এ এফ এম আব্দুল হক
৪৬. অধ্যক্ষ এ কিউ এম আদমউদ্দিন
৪৭. আলী মনসুর
৪৮. কাজী আফসারউদ্দিন আহমেদ
৪৯. সানাউল্লাহ নূরী 
৫০. শামসুল হক
৫১. সরদার ফজলুল করিম 
৫২. বদিউজ্জামান
৫৩. শফিক (শফিকুল) কবীর
৫৪. ফওজিয়া খান
৫৫. লতিফা চৌধুরী

* জনাব এম কবীর (ডক্টর মফিজুল্লাহ কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর-১৯৭৮) প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসন আমলে স্বাধীনতাযুদ্ধ ইতিহাস প্রকল্পের (১ম পর্যায়) ৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রামাণ্যকরণ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হনইন্তেকাল করেছেন জনাব শামসুল হুদা চৌধুরী প্রেসিডেন্ট জিয়ার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য ছিলেনজনাব চৌধুরী জাতীয় পরিষদের মাননীয় স্পিকার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেনতিনিও ইন্তেকাল করেছেন

একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়
গ্রন্থের প্রচ্ছদ

বিবৃত্তি সম্পর্কিত কিছু প্রাসঙ্গিক কথাবার্তা :

ঢাকার ‍‍‌‍‍সাপ্তাহিক বিচিন্তা পত্রিকায় ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসের ৩টি সংখ্যায় আলোচ্য বিবৃতিতে দস্তখতকারী কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়এক্ষণে উল্লেখিত কয়েকটি সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ উদ্ধৃত হলো :
...
আমি ওদের বললাম, সবার স্বাক্ষর নিয়ে আসুন তারপর স্বাক্ষর দেবতারা বলেছিল অন্য কপি নিয়ে বিভিন্ন জন স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেঅবশ্য পরদিন তারা আবার এল, সবার স্বাক্ষর দেখে (দু'একজন বাদ ছিল, স্বাক্ষর দিই।... তখন অবস্থা এমন ছিল যে স্বাক্ষর না-দেওয়া আর মৃত্যুর পরোয়ানায় স্বাক্ষর দেওয়া সমান কথা(কবি তালিম হোসেন, বিচিন্তা, ১লা জুলাই, ১৯৮৭) কিন্তু কী বিবৃতি প্রকাশ হবে তা আমাকে দেখানো হয় নাইপরে যখন সেটা ছাপানো হলো তখন আমি ভয়ানক আপত্তি জানাইএ রকম পলিটিক্যাল বিবৃতি ছাপা হওয়ার জন্য আমি খুব বিরক্ত হই এবং রেডিওতে হেমায়েত হোসেনকে প্রতিবাদ জানাইপরে তারা বলল, আপনাদের জান বাঁচানোর জন্য এ কাজ আমরা করেছি আমাকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করা হয়েছেআমি ছাপানো বক্তব্যটিকে গর্হিত মনে করি(লেখক শাহেদ আলী, বিচিন্তা, ১২ জুলাই ১৯৮৭)

আপনাদের তালিকার পূর্বে বলা হয়েছে রাজাকার তালিকার সম্পূরক হিসাবে আপনারা পঞ্চান্নজন বুদ্ধিজীবী শিল্পীর নাম প্রকাশ করেছেনএ প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য হলো ইব্রাহিম, মুনীর চৌধুরী, আশরাফ সিদ্দিকী, সরদার জয়েনউদ্দিন ও সরদার ফজলুল করিম এদের সঙ্গে আমি খান আতা যেকোনো গোত্রভুক্ত হতে রাজি আছিতবে বিবৃতির পটভূমি যতদূর মনে পড়ে টেলিভিশন কেন্দ্র তখন ডিআইটিতেএকদিন সাদেক সাহেব একটি বিবৃতি নিয়ে এসে বললেন সই দিতেঅবস্থা এমন ছিল যে, সই না দিয়ে কোনো উপায় ছিল নাকেননা, সই না দিলে আমার অবস্থা আলতাফ মাহমুদের মতোই হতোএ তো বেঁচে থাকার জন্যআর 'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে।... আমরা সই করেছি...(চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমান, বিচিন্তা, ১২ জুলাই ১৯৮৭)। বিবৃতিতে স্বাক্ষর নিতে রেডিওর মো: জাকারিয়া এবং কবি হেমায়েত হোসাইন আমার বাসায় আসেনএরা দু'জন প্রথম দিন আমাকে না পেয়ে দ্বিতীয় দিন এলে তাদেরকে আমার উপরস্থ কর্মকর্তার অনুমতির কথা বলে পরে আসতে বলিএ ফাঁকে আমি আমার বন্ধু মুনির চৌধুরী, সৈয়দ মুর্তজা আলী, সরদার ফজলুল করিম, এদের সঙ্গে আলাপ করিএরা বলে এ রকম একটি বিবৃতি আমাদের কাছেও এসেছে, আমরা স্বাক্ষর দিয়েছি, তুমিও দিও।... (ড. আশরাফ সিদ্দিকী, বিচিন্তা, ১৯ জুলাই, ১৯৮৭) বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে তারিখে বুদ্ধিজীবীদের স্বাক্ষরিত আলোচ্য বিবৃতি সম্পর্কে একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়' পুস্তকের মন্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য... এ বিষয়ে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন সানাউল্লাহ নূরী, আশকার ইবনে শাইখ প্রমুখশামসুল হুদা চৌধুরী বলেন, উক্ত বিবৃতিতে তিনি স্বাক্ষর করেননিসরদার ফজলুল করিম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেনবিচিন্তার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন ফওজিয়া খান, ড. কাজী দীন মোহম্মদ, ফেরদৌসী রহমান প্রমুখড. আশরাফ সিদ্দিকী বিচিন্তার সাক্ষাৎকারের এক জায়গায় বলেছেন, “এদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, যেমন- সানাউল্লাহ নূরী, আশকার ইবনে শাইখ, শাহেদ আলী, আরও অনেকে।..... ঢাকা ও চট্টগ্রামের বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতির মূল বক্তব্য একই এবং অনুমান করতে অসুবিধা হয় না একই জায়গা থেকে এই বিবৃতিগুলো এসেছেস্বাক্ষরদাতাদের তালিকায় এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে যাঁরা প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন৫৫ জন বুদ্ধিজীবির ভেতর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাট্যকার মুনীর চৌধুরী যিনি ডিসেম্বরে আল বদরের ঘাতকদের হাতে নিহত হন ৫৫ জন বুদ্ধিজীবীর বিবৃত্তির মূল ভাষ্য ইংরেজিতে ছাপানো (করাচীর সইফি প্রিন্টার্স কর্তৃক মুদ্রিত)নয় পৃষ্ঠার এই বিবৃতির নামপরে বড় হরফে লেখা - "A Statement by East Pakistan Scholars and Artists"বিবৃতির মূল ভাগ্যের পর নামের তালিকা স্বাক্ষরকারীদের পরিচিতিসহ ছাপা হয়েছেএই তালিকায় মোট ৫৭টি নাম রয়েছে, এর ভেতর গায়ক আব্দুল আলিমের নাম দুবার ছাপানো রয়েছেছাপানো নামের পাশে তিনি দুবার সই করেছেন, প্রথমবার 'আব্দুল আলিম' এবং শেষের বার শুধু 'এ আলিমড. কাজী দীন মোহাম্মদ এবং নুরু মোমেনের নামের মাঝখানে ‌'কবীর চৌধুরী, পরিচালক বাংলা একাডেমি, ঢাকা' ছাপা রয়েছেকিন্তু পাশের কলামে কবীর চৌধুরীর সই নেইসৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, কাজী দীন মোহাম্মদ, মীর ফকরুজ্জামান চৌধুরী, ইব্রাহীম খান প্রমুখ নামের পাশে সই করা ছাড়াও নামপত্রের উপর সই করেছেনমোস্তফা জামান আব্বাসী, সানাউল্লাহ নূরী ও শামসুল হক বাংলায় সই করেছেন, অন্য সবাই করেছেন ইংরেজিতে "পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের অনেকে পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেছেনফলে অনুমান করে নেয়া যেতে পারে যে, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে এই বিবৃতিতে সই করেছেনআমাদের প্রশ্ন হচ্ছে কে বা কারা তাঁদের বাধ্য করেছিল এ কথা তখন তাঁরা বলেননিস্বাধীনতার পর এসব নাম প্রকাশ করা অবশ্যই তাদের উচিত ছিল।..." চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ জন দক্ষিণপন্থী অধ্যাপকের বিবৃতি 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের ভারতীয় প্রচার নির্জলা মিথ্যা" শিরোনামে দৈনিক পাকিস্তানে ২৭/০/১৯৭১ তারিখে এপিপি পরিবেশিত যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিয়ে তার অংশ বিশেষ আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনায় গভীর বেদনা বোধ করছিআমাদের দৃবিশ্বাস যে ভারতীয় যুদ্ধবাজ যারা মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি হিসাবে পাকিস্তান সৃষ্টিকে কখনো গ্রহণ করেনি প্রধানত তাদের চক্রান্তের ফলেই এটা হয়েছে আমরা আমাদের প্রিয় স্বদেশভূমির সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আমাদের সেনাবাহিনীর সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশংসা করছি আমরা দেশের সংহতি ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার জন্য চরম পন্থীদের অপপ্রয়াসের তীব্র নিন্দা করছিবহির্বিশ্বের চোখে পাকিস্তানের মর্যাদা হ্রাস ও পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার অপচেষ্টা এবং সীমান্তে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে আমাদের ঘরোয়া ব্যাপারে ভারতীয় হস্তক্ষেপের আমরা নিন্দা করছি আমরা ভারতের ভিত্তিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক প্রচারণার নিন্দা করছি।... চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের সকল ভবন অক্ষত রয়েছে এবং কোনো ভবনের কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করা হয়নিআমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বর্তমান মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলাআল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে আমরা বর্তমান সংকট হতে মুক্ত হতে পারব

মুজিবের রক্ত লাল গ্রন্থের প্রচ্ছদ

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী শিক্ষকরা হলেন :

১. জনাব ইউ এন সিদ্দিকী
২. অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম 
৩. ড. এম বদরুদ্দোজা
৪. জনাব মো. ইনামুল হক
৫. ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী
৬. জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান
৭. খোন্দকার রেজাউর রহমান
৮. সৈয়দ কামাল মোস্তফা 
৯. জনাব এম এ জিন্নাহ
১০. জনাব রফিউদ্দিন
১১. জনাব এ কে এস আহমদ
১২. জনাব রুহুল আমিন
১৩. মো: আলী ইমদাদ খান
১৪. হোসেন মো: ফজলে দাইয়ান
১৫. মো: দিলওয়ান হোসেন 
১৬. জনাব আব্দুর রশিদ
১৭. জনাব মুকাদ্দাসুর রহমান
১৮. জনাব আহসানুল কবীর 
১৯. শাহ মো: হুজ্জাতুল ইসলাম
২০. মোহাম্মদ আলী
২১. জনাব এজাজ আহমদ
২২. জনাব এস এম হোসেন
২৩. জনাব জেড এইচ চৌধুরী
২৪. জনাব হাতিম আলী হাওলাদার
২৫. ড. মো: আব্দুল আওয়াল 
২৬. মো. মনিরুজ্জামান
২৭. মো: মনিরুজ্জামান হায়াৎ*
২৮. জনাব আব্দুল সায়ীদ
২৯. মো: মুস্তফা
৩০. মিসেস সুলতানা নিজাম
৩১. ড. জাকিউদ্দিন আহমদ
৩২. আব্দুর রশিদ হায়দার
৩৩. নাম ছাপা হয়নি


(* ইনি হায়াৎ মাহমুদ নামে সমধিক পরিচিতএকাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়' পুস্তকের তথ্যের ভিত্তিতে অত্র প্রতিবেদন প্রণীত হয়েছেএতদসম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণের জন্য আলোচ্য পুস্তকের পৃষ্ঠা ১৫৮-১৮২ দেখুন) 

লেখা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা : সুশোভন ইফতেখার শাওন

 



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ল্য দোজিয়েম সেক্স/দি সেকেন্ড সেক্স/শি লিঙ্গ

শহীদ জিয়ার জীবন রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার