আগাবাকর ও খনি বেগমের উপাখ্যান (১ম পর্ব) / সুশোভন ইফতেখার শাওন
১৭০৭ সালে সম্রাট আলমগীর এর মৃত্যুর ৫০ বছরের মধ্যে সমগ্র মুঘল সাম্রাজ্য হিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। তখন সরকারী আমলা এবং রাজকর্মচারীর মধ্যে ঘটেছে ব্যাপক দুর্নিতী। বিশেষ করে সুবে বাংলায় সরকারী কর্মচারীর দুর্নিতী আর প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে প্রশাসন সম্পূর্ন রূপে ফাসে পরার উপক্রম হয়েছে। বাংলার সুবেদার নবাব আজিমুসসান ছিলেন সম্রাট আলমগীরের কনিষ্ট পুত্র। তিনি ছিলেন নিষ্ঠুর, দুর্নিতীপরায়ন আর পরনারীতে আসক্ত। জিনজিরা প্রাসাদে ইয়ার বন্ধুদের নিষে মদ আর সুন্দরী নারীদের নিয়ে আমোদ ফুর্তিতে কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন। রাষ্ট্রের প্রশাসনের দিকে কোন নজর দেয়ার অবকাশ তার ছিল না। ঠিক এমনি অবস্থায় ভারত সম্রাট আওরঙ্গজেব মুর্শিদকুলি খানকে সুবে বাংলার দেওয়ান করে ঢাকায় পাঠালেন। অল্পদিনের মধ্যে নবাগ আজিমুস সানের ক্রিয়া কর্মে তিনি হতাশ হয়ে পড়লেন। অর্থের ভান্ডার দেওয়ানে। কাছে। প্রথম প্রথম সুবেদার যে অর্থ চেয়েছেন, তাই প্রদান করেছেন তিনি। কিন্তু সুবে বাংলার সুবেদার এর সার্বিক অবস্থা অবগত হওয়ার পর প্রয়োনোরিক্ত অর্থ প্রদান বন্ধ করে দিলেন। ফলে সুবেদার আর দেওয়ানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হল। শেষ পর্যন্ত নবাব আজিমুসসান মুর্শিদকুলি খানকে হত্যা করার পরিকল্পনা নেন। দেওয়ান মুর্শিদকুলি খান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাফেরা করতেন। তিনি সম্রাট আলমগীরকে সুবে বাংলার যাবতীয় ঘটনার কথা জানিয়ে পত্র দিলেন। পত্রে তিনি আরও জানালেন, ঢাকা নগরী ষড়যন্ত্রের আখড়ায় পরিণত হয়ে গেছে। সুবে বাংলার রাজধানী স্থানান্তর অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ভারত সম্রাট আলমগীর পত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পুত্র নবাব আজিমুস-সানকে সুবেদার এর পদ থেকে প্রত্যাহার করে দিল্লিতে তলব করলেন এবং দেওয়ান মুর্শিদকুলি খানকে সুবেদার পদে নিয়োগ দান করলেন। এতে এ কথা প্রতিয়মান হয় যে সম্রাট অযোগ্য দুর্নিতীপরায়ন এবং চরিত্রহীন সন্তানদেরকেও ক্ষমা করেননি বা তাদের প্রতি নির্ভরশীল ছিলেন না। ১৭০৩ সালে সুবে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মকসুদ পুরে স্থানান্তরিত হল। রাজধানীর নতুন নাম করন করা হল মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদকুলি খান যখন দিল্লি থেকে ঢাকা আগমন করেন তখন তিনি একজন ক্রিতদাস কিশোরকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি এই কিশোরকে নিজের পুত্রের মত স্নেহ করতেন। ঐ সময়ই তার দেহ সৌষ্ঠব ছিল অপূর্ব। তার চরিত্রের মাধুর্যে মানুষ মুগ্ধ হত।
যখন মুর্শিদাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে তখন আগাবাকর যুবকে পরিনত হয়েছেন, যেমন ছিল তার অপূর্ব দেহ সৌষ্ঠব, তেমনি ছিল তার শরীরে অসুরের শক্তি, সেই সঙ্গে ছিল তার সাহস ও মেধা। অচিরেই তিনি সেনাধ্যক্ষের পদে উত্তীর্ণ হন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে একটি বিশেষ স্থান করে নেন নিজের কর্মদক্ষতায়। তখন এক দিকে রাজা রাজবল্লভ, অন্যদিকে আগা বাকের ছিলেন মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
চলবে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন