সঠিক বেঠিক ইতিহাস ও আমার ক্ষুদ্র বিশ্লেষন

ইবরাহীম খাঁ

 উইকিপিডিয়া প্রকাশিত ইবরাহীম খাঁ এর জীবনীর অংশ

ইবরাহীম খাঁ 

(ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪-২৯ মার্চ ১৯৭৮) উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইলের তৎকালীন ভূঞাপুর থানার অন্তর্গত বিরামদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেনতার বাবার নাম শাবাজ খাঁ ও মায়ের নাম রতন খানম ইবরাহীম খাঁ ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

শিক্ষা জীবন

ইব্রাহীম খাঁ ১৯০৬ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ির পিংনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হনতিনি ১৯১২ সাল পর্যন্ত এখানে অধ্যয়ন করেনসাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ প্রথম মুসলমান ছাত্র যিনি পিংনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রাস (বর্তমান এস.এস.সি) পাশ করেন১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ.পাস করে তিনি অধ্যাপনায় নিয়োজিত হন ও করটিয়া সাদত কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন১৯২৪ সালে আইনে স্নাতক পাস করে তিনি ময়মনসিংহ বারের আইনজীবী হিসেবে ওকালতি শুরু করেনতিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। 

সাহিত্য কর্ম

ইবরাহীম খাঁ স্মৃতিকথা, শিক্ষা-সাহিত্য-ধর্ম-বিষয়ক প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ কাহিনী, রসরচনা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস ও জীবনচরিত, শিশু সাহিত্য, পাঠ্য বই ও অনুবাদ মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেনঅনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে কর্মব্যস্ত থেকেও অনলসভাবে তিনি বিশাল সাহিত্য ভান্ডার রচনা করেছেনসাহিত্যের সকল শাখায়ই তিনি স্বচ্ছন্দে সফলতার সঙ্গে পদচারণা করেছেনমুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের পুনর্জাগরণের প্রয়াস তার লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন

ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে মহাপ্রাণ মনীষী ইবরাহীম খাঁ কর্মজীবনের শুরুতেই অসহযোগ আন্দোলন এবং খেলাফত আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েনএই আন্দোলন তার গভীরভাবে জনজীবনের সাথে প্রত্যক্ষ পরিচয়ের ভিত তৈরি করে দেয়সেই সময় মুসলিম মনে আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত করার জন্য তিনি ইতিহাস, সমকালীন জীবন নিয়ে, ইসলামের গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন- এটাকেই তিনি তপস্যা বলেছেনব্রিটিশ ভারতে নিগৃহীত পণ্ডিতদেরকে তিনি তার কলেজে সুযোগ দিতেন- এমনকি অন্যত্র বহিষ্কৃত ছাত্ররাও তার আশ্রয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেতিনি তার নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলেন, কিন্তু অন্যের মতবাদকে বিন্দুমাত্র অশ্রদ্ধা করতেন নাউদার মানবতাবাদী ইবরাহীম খাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান উৎসই শিক্ষা এবং সংস্কার-তিনি মূলত সংস্কারকইঅসংখ্য শৈবালদামে আচ্ছন্ন স্রোতধারার সংস্কারকেও কিছুটা বিপ্লবী ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়-তিনি তা করেছেন

বাংলা একাডেমি চারিতাভিধান-এ ইবরাহীম খাঁর
জীবনীর অংশবিশেষ

 

আমার বিশ্লেষন

বাংলা একাডেমী প্রকাশিত ‌‌"বাংলা একাডেমী চারিতাভিধান"-এর ১১৭ ১১৮ নং পৃষ্ঠার জীবনীতে ১১৮ নং পৃষ্ঠায়  উল্লেখ আছে ২২ জুন পাকিস্তান সরকার রেডিও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্র সংগীত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৭ মে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য তৎকালীন জাতীয় দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় বিবৃতি প্রদান করেন।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকেই ইবরাহীম খাঁ পাকিস্তানি আদর্শের সমর্থক। ১৯৭০ এর ৭ ডিসেম্বরের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের (কাইয়ুমপন্থী) মনোনয়নে টাঙ্গাইল জেলা থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

ইবরাহীম খাঁ মৃত্যুর দু'বছর আগে ১৯৭৬ সালে একুশ পদকে ভূষিত হন, যা বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। আমার প্রশ্ন একজন পাকিস্তান পন্থী লোক কিভাবে এতো ভাবে বাংলাদেশের বিরোধীতা করে বাংলা ভাষার জন্য জীবন লড়াইকে কেন্দ্র করে সেই নামের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত হন। তাহলে কি ধরে নিব এসব পুরস্কার সব শুধু লোক দেখানোর জন্যই দেয়া হয়। এইতো কিছুদিন আগে এসইডিপিই নামে বাংলাদেশে বইক্রয়ের একটি প্রকল্প অনুষ্ঠিত হল যে বই জমা প্রদানের বিজ্ঞপ্তির একটি অংশে লেখা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে সাংর্ঘষিক কোন লেখকের বই বা সাংর্ঘষিক কোন লেখা বইতে লিখিত থাকলে সেবই ক্রয় করা যাবেনা। কিন্তু অবাক করার মত বিষয় ইবরাহীম খাঁর বই সেখানে তালিকাভুক্ত হয় এবং পরে তা ক্রয় কমিিট কর্তৃক ক্রয় করা হয়। আমরা আসলে কোন দেশে বাস করি।


১৭ মে ১৯৭১ দৈনিক পাকিস্তান
পত্রিকায় বিবৃতির প্রথম পাতা

১৭ মে ১৯৭১ দৈনিক পাকিস্তান
পত্রিকায় বিবৃতির তৃতীয় পাতা



 


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ল্য দোজিয়েম সেক্স/দি সেকেন্ড সেক্স/শি লিঙ্গ

শহীদ জিয়ার জীবন রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার