শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: শিশু-কিশোরদের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক


শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁর নাম চিরস্মরণীয়। তবে কেবল বড়দের জন্যই নয়, শিশু-কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং তাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান অপরিসীম।

শিশু-কিশোরদের জন্য গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও মনন বিকাশে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন:

নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠান : শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) **'নতুন কুঁড়ি'** নামক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালু ও জনপ্রিয় করেন। এটি ছিল সে সময়ের শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা : শিশুদের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি **বাংলাদেশ শিশু একাডেমি** প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে যা সারা দেশে শিশুদের সৃজনশীল চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

শিশু বান্ধব আইন : ১৯৭৪ সালের শিশু আইনকে কার্যকর করার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার রক্ষায় তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
জাতীয় শিশু পুরস্কার : শিশুদের মেধা ও সাহসকে উৎসাহিত করতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রদানের প্রথা চালু করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার ও গণশিক্ষা : 
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না—এই মন্ত্র নিয়ে তিনি শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার : শিশুদের স্কুলে যাওয়ার হার বাড়াতে তিনি দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করেন।
গণশিক্ষা কার্যক্রম : নিরক্ষরতা দূর করার লক্ষ্যে তিনি গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন, যার ফলে অনেক পিছিয়ে পড়া কিশোর-কিশোরী শিক্ষার আলো দেখার সুযোগ পায়।

দেশপ্রেম ও নৈতিকতা শিক্ষা
জিয়াউর রহমান মনে করতেন শিশুদের কেবল বই পড়লেই চলবে না, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং উন্নত নৈতিক চরিত্র থাকতে হবে। এজন্য তিনি শিশুদের 'জাতীয়তাবোধ' এবং 'স্বনির্ভরতার' শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত '১৯ দফা' কর্মসূচিতে শিশুদের কল্যাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছিল।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি চাইতেন প্রতিটি শিশু যেন আত্মমর্যাদাশীল এবং সাহসী হয়ে গড়ে ওঠে। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও পদক্ষেপের কারণেই আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

"শিশুরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি।" 
— এই বিশ্বাসই ছিল শহীদ জিয়ার কাজের মূল ভিত্তি।

সুশোভন ইফতেখার শাওন 
প্রকাশক, লেখক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ল্য দোজিয়েম সেক্স/দি সেকেন্ড সেক্স/শি লিঙ্গ

শহীদ জিয়ার জীবন রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ / সুশোভন ইফতেখার শাওন

সময় এসেছে বইমেলা নিয়ে ভাববার