কোরবানি ইসলাম কি বলে ?
কোরবানির গোশত বণ্টনের ভিত্তি হলো কুরআনের এই আয়াত:
"অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ, অভাবী ও যাঞ্চাকারীদের আহার করাও।"
(সূরা হজ: ২৮ ও ৩৬)
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরাম গোশত বণ্টনের পদ্ধতিকে তিনটি ভাগে বিন্যস্ত করাকে উত্তম বলেছেন:
১. নিজের ও পরিবারের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ)
কোরবানির গোশতের একটি অংশ কোরবানিদাতা নিজের এবং তার পরিবারের খাওয়ার জন্য রাখবেন। এটি আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
২. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ)
একটি অংশ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এটি সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।
৩. অভাবী ও দরিদ্রদের জন্য (এক-তৃতীয়াংশ)
বাকি অংশটি সমাজের অসহায়, অভাবী ও ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। যাতে ঈদের খুশিতে তারাও শামিল হতে পারে।
★কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় :
*বাধ্যতামূলক নয় : এই তিন ভাগ করাটা 'মুস্তাহাব' বা উত্তম আমল; এটি কোনো ফরজ বা বাধ্যতামূলক আইন নয়। যদি কারও পরিবার বড় হয় এবং তার সবটুকু গোশত প্রয়োজন হয়, তবে তিনি পুরোটা রেখে দিলেও কোনো গুনাহ হবে না।
*তাকওয়া বা পরহেজগারি : কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই লোকদেখানো বণ্টন বা কেবল নিজের ভোগ নয়, বরং ত্যাগের মহিমায় অভাবীদের হক আদায় করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।
*উপার্জন নয় : কোরবানির গোশত বা চামড়া বিক্রি করা জায়েজ নেই। এমনকি কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে না (আলাদাভাবে উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে)।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সামর্থ্য থাকলে তিন ভাগে বণ্টন করাই সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ এবং সওয়াবের কাজ।
লেখা : সুশোভন ইফতেখার শাওন

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন